হিমু নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে হলুদ পকেটহীন পাঞ্জাবি পড়া এক যুবক, যে রাত-বিরাতে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় উদ্দেশ্যহীনভাবে, যে সারাক্ষণ জ্ঞানের আলাপ করে- এই ধরনের অনেক কিছু। টগরদের বাড়ির লোকজনেরও ঠিক এমনই ধারণা হিমু সম্পর্কে। কিন্তু টগর! সে কে? টগর হলো এই বইয়েরই প্রধান চরিত্রের একজন। টগরদের বাড়িতে আজ সন্ধ্যার পর বিচারের আয়োজন করা হয়েছে। টগরের ছোট মামা শুভ্রকে ছেচা দেয়া হবে। আর এই বিচার সভার আয়োজক টগরের বড় চাচা হাইকোর্টের প্রাক্তন উকিল চৌধুরী আজমল হোসেন। টগরদের বাড়ির যাবতীয় বিচার তিনিই করেন। তার কথার উপর বাড়ির একজনই কথা বলতে পারেন। তিনি হলেন টগরের দাদী। টগরের ছোট মামা ঘোষণা করেছেন এখন থেকে তার নাম শুভ্র না হিমু। টগর যেন তাকে হিমু মামা বলে ডাকে। এই কথা জানাজানি হওয়ার পরই শুরু হলো বাড়িতে তুলকালাম কাণ্ড। বাড়ির কেউ জানে না, আসলে হিমু কি? শুধু জানে, হিমুরা হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে ঘুরে বেড়ায়, সারাক্ষণ তারা জ্ঞানের আলাপ করে, কোন অপরাধ করে মিষ্টি করে হাসে, সবচেয়ে বড় কথা রাত-বিরাতে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। শুভ্র যেন এই পথে না যায়, সেজন্যই বড় চাচা তাকে শাস্তি দিবে বলে ঠিক করেছেন। পরেরদিন দেখা যায়, শুভ্র চৌবাচ্চার পানিতে ডুবে আছে শুধু গলাটা বের করে। হিমু হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টায় আছে শুভ্র। যদি সে হিমু হতে পারে তাহলে তো সে ভবিষ্যৎও বলে দিতে পারবে সবার! এদিকে টগরদের বাড়িতে শুরু হয়েছে ভৌতিক কিছু কাজকর্ম। বড় চাচার জন্য প্লেটে রাখা কলা হটাৎ করে উধাও, আবার ঘরের এক জিনিস অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে একা একাই। কিন্তু এ কি করে সম্ভব? একদিকে শুভ্রের হিমু হওয়া নিয়ে চিন্তা অন্যদিকে এই ভৌতিক যন্ত্রণা সবমিলিয়ে অতিষ্ঠ টগরদের বাড়ির লোকজন! সেইসব মজার গল্প নিয়েই লেখা হুমায়ূন আহমেদ স্যারের "হিমু মামা" বইটি!!!